‹ হোম
ছোটোগল্প

চক্র

সাজ্জাদ সিয়াম

রমিজ তার বৌ এর হাতটা ঠেলে সরিয়ে দিলো বুকের উপর থেকে। ঘুম আসছে না। বিরক্ত লাগছে নাকি অন্য কোন অনুভূতি, ঠিকঠাক বুঝতে পারছে না। বিছানায় উঠে চোখমুখ কুঁচকে বসে রইলো।

"কি হইলো? ঘুমান না কেন?" রমিজের বৌ শিউলি ঘুম জড়ানো গলায় প্রশ্ন করলো। শিউলির বুকের সাথে জড়িয়ে ধরা ওদের সদ্য জন্ম নেয়া কন্যা সন্তান, জুঁই।

উত্তর দিলো না রমিজ। শখ করে কেনা হাতঘড়িটার দিকে তাকিয়ে সময় দেখলো। রাত তিনটা প্রায়। ঘুম নেই। তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে আজ সন্ধ্যার ঘটনাটা।

তখন সন্ধ্যার আজান হচ্ছে চারপাশের সব মসজিদে। সন্ধ্যা ৬ টা। মাগরিবের সময় হয়েছে। নিজের রিকশা চালিয়ে রমিজ ফিরছিলো বাসার দিকে। রিকশার হ্যান্ডেলে একটা মিষ্টির প্যাকেট বেঁধে ঝোলানো। দুইদিন আগে তার ঘর আলো করে নিজের প্রথম সন্তান এসেছে। মায়ের সাথে মিলিয়ে তার নাম রেখেছে জুঁই।

সেই উপলক্ষ্যে আজ এক প্যাকেট মিষ্টি কিনেছে, দুই কেজির প্যাকেট। সবগুলো কালো মিষ্টি। কালো মিষ্টি শিউলির খুব পছন্দ। তার নিজেরও পছন্দের। মিষ্টির দোকানটা থেকে একটু তাড়াহুড়ো করেই বের হয়েছিলো রমিজ।

মিষ্টির প্যাকেটটা নিয়ে বের হতেই একজন প্যাসেঞ্জার পেয়ে গেলো। মিষ্টির দোকানের সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলো রিকশার জন্য। কালো স্যুট, সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট, শু জুতো পরা এক ফিটফাট ভদ্রলোক। বুকপকেটে দামী একটা সানগ্লাস ঝোলানো। এই লোককে দেখে মনে হচ্ছে নিজের প্রাইভেট কারটা কোন কারণে বাধ্য হয়ে রেখেই তাকে রিকশায় চরতে হচ্ছে। মোটামুটি একটু বেশি ভাড়া চেয়ে বসলো রমিজ। লোকটাও একবাক্যে রাজি হয়ে গেলো। রমিজ খুশি খুশি মনে রিকশার প্যাডেল চাপছে।

ভদ্রলোক যে ঠিকানার কথা বলেছে সেটা রমিজের বাড়িতে যাবার রাস্তাতেই পড়ে। ওনাকে নামিয়ে দিয়ে সোজা নিজে বাড়ি ফিরবে রমিজ। আজকের মত শেষ ট্রিপ এটা। মেয়ের কাছে যাবে। মেয়েটাকে ছাড়া দু দণ্ড থাকতেও অস্থির লাগে যেন।

আপনমনে একটা গানের কলি গুণগুণ করতে করতে পেছনে বসা সাহেবের ঠিকানায় এসে পৌছুলো। ভদ্রলোক রিকশা থেকে নেমে ভাড়া দেবার জন্য রমিজের সামনে এসে দাঁড়িয়ে কোটের ভেতরের পকেট থেকে লম্বা একটা ওয়ালেট বের করলো। ওয়ালেট খুলতে গিয়ে হঠাৎ থমকে গেলো। রমিজ লোকটার মুখের দিকে তাকাতেই দেখলো লোকটা স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রমিজের রিক্সার হ্যান্ডেলের ঝোলানো সেই মিষ্টির প্যাকেটটার দিকে।

রমিজ কিছু বলতে নিবে তার আগেই তাকে পুরোপুরি হতভম্ব করে দিয়ে লোকটা একটা থাবা মেরে মিষ্টির প্যাকেটটা টান দিয়ে হাতে নিয়ে ঝট করে এক দৌড় লাগালো উল্টো দিকে!

রমিজ তখনো রিকশার পাশে ঠায় দাঁড়ানো। তার একবিন্দু বিশ্বাসও হচ্ছে না যে দামী কোট প্যান্ট শু-টাই পরা একজন লোক তার মত এক সামান্য রিকশাওয়ালার রিকশা থেকে একটা সাধারণ মিষ্টির প্যাকেট চুরি করে এভাবে দৌড়ে পালাচ্ছে!

পেছন পেছন দৌড় দিবে নাকি ভেবেও দিলো না। রিকশা কে দেখবে? এক প্যাকেট মিষ্টির জন্য তো আর রিকশাটা হাতছাড়া করতে পারে না! কিন্তু কেমনে কি? কেনই বা করলো এমন?

রমিজ ভেবে কোন কূল পায় না। শিউলিকে বলতে চেয়েও কিছু বললো না। না ঘুমিয়েই রাত পার করলো। ভোরের আগে আগে চোখ লেগে গেলো। হঠাৎ কারো উচ্চস্বরে কান্নার আওয়াজে ঝটকা দিয়ে ঘুম ভেঙে গেলো।

চোখ খুলে দেখে শিউলি কাঁদছে! হাউমাউ করে কাঁদছে! সেই কান্নায় কষ্টের চেয়ে বেশি ভয়, তীব্র আতংক!

কি হয়েছে প্রশ্ন করার আগেই রমিজের চোখ গেলো ওর আর শিউলির মাঝখানের ফাঁকা জায়গাটায়। ওখানে কাঁথা বিছিয়ে জুঁইয়ের বিছানা পাতা ছিলো।

কিন্তু... জুঁই? জুঁই কোথায়?

জুঁইয়ের বদলে সেই কাঁথার উপর পড়ে আছে একটা ছোট্ট বাচ্চার কঙ্কাল!

সেই কঙ্কালের খুলির খোলা দুই অক্ষিকোটরের ভেতরে, হাঁ করা চোয়ালের ভেতরে, হাতের পাঁচ আঙুলের হাড়গুলোর আগায়, পায়ের আঙুলের হাড়, খোলা পাজড়ের খাঁচা, এখানে ওখানে সবখানে একটা করে... কালো মিষ্টি গাঁথা!

ভয়ংকর একটা কাঁপুনি দিয়ে গেলো যেন রমিজের সারা শরীরে! প্রচন্ড জোড়ে একটা চিৎকার দিতে চেয়ে হাঁ করতেই চারপাশ নিকষ অন্ধকারে ঢেকে গেলো।

যখন চোখ খুললো, তখন চারপাশের মসজিদে আজান হচ্ছে।

সন্ধ্যা প্রায়। মাগরিবের আজান হচ্ছে। নিজেকে আবিষ্কার করলো রিকশা চালাচ্ছে এমন অবস্থায়!

গতকাল সন্ধ্যা! এটাতো গতকালকের সন্ধ্যা!
সামনেই এখন সেই মিষ্টির দোকানটা পড়বে যেখান থেকে মিষ্টি কিনেছিলো গতকাল।

সে আবার গতকাল সন্ধ্যায় ফিরে এসেছে? কিভাবে? জুঁই কই? কি হচ্ছে এসব! বেশিক্ষণ ভাবার সময় পেলো না।

সামনের মিষ্টির দোকানটা দেখতে পেলো। দোকানটা দেখা মাত্রই গতকালকের কথা স্পষ্ট মনে পড়লো রমিজের।

গতকাল বাড়ি ফেরার সময় প্রথমে মিষ্টি কেনার কথা তার মনেই ছিলো না। বাসার কাছাকাছি আসার পর হঠাৎ মনে পড়েছিলো। আবার ফিরে যেতে হবে মিষ্টি কেনার জন্য এটা ভেবে যখন আফসোস করছিলো তখনই সামনে হাতের বামদিকে এই মিষ্টির দোকানটা দেখতে পেয়েছিলো।

এই রাস্তায় আরো অনেকবার যাওয়া আসা করলেও কখনো এই মিষ্টির দোকানটা চোখে পড়েনি। নতুন খোলা মনে হয়। রিকশাটা রেখে গামছা দিয়ে মুখটা মুছতে মুছতে দোকানটার দিকে এগিয়ে গিয়েছিলো রমিজ।

দোকানের উপরে সাইনবোর্ডে লেখা "শ্ম..শ..ষ্টি" মাঝের কিছু অক্ষর মুছে গেছে। ভেতরে ঢুকতেই দেখেছিলো ক্যাশ কাউন্টারের ওপাশে মোটামুটি রাজকীয় দর্শন এক চেয়ারে একজন গোলগাল চেহারার লোক বসে আছে। লোকটার চেহারাটা কেমন যেন লাগছিল। ঠিক বর্ণনা করে বোঝানোর মত নয়। গোল গোল বড় বড় দুটো চোখ। লোকটা ওকে দেখে হাসিমুখে চেয়ার থেকে নেমে এসে ওর সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলো। মাথায় ধূসর রঙের একটা গোল টুপি।

"মিষ্টি কিনবেন?" লোকটা অমায়িক একটা হাসি দিয়ে বলেছিলো ওকে।

কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিলো রমিজের। তাড়াহুড়ো করে দুই কেজি কালো মিষ্টি কিনে বের হয়েই সামনে পেয়েছিলো সেই কোট প্যান্টওয়ালা প্যাসেঞ্জারটাকে।

আজ আবারো সেই মিষ্টির দোকানটার সামনেই দাঁড়িয়ে রমিজ!

কি করবে না করবে কিছুই বুঝতে না পেরে কোথাও এক মুহূর্তের জন্য না থেমে তাড়াহুড়ো করে রিকশা টেনে বাড়ি চলে আসলো।

জুঁই কই? ওর মেয়েটা ঠিক আছে তো?

রুমে ঢুকতেই দেখলো জুঁইকে কোলে নিয়ে খাওয়াচ্ছে।শিউলি। দৌড়ে গিয়ে দেখলো তার মেয়ে সম্পূর্ণ ঠিক আছে। একদম সুস্থ।

বড় একটা শ্বাস ছাড়লো রমিজ।
পুরোটাই তাহলে একটা দুঃস্বপ্ন ছিলো? ভয়ংকর কোন দুঃস্বপ্ন?

"কি হইছে?" রমিজের চিন্তিত মুখ দেখে প্রশ্ন করলো শিউলি।

"কিছু না। কিছু না!" সারারাত ঘুমালো না রমিজ। ঠায় বসে তাকিয়ে রইলো মেয়ের দিকে।

ভোরের ঠিক আগ মুহূর্তে নিজের অজান্তেই চোখদুটো বন্ধ হয়ে গেলো। সাথেসাথেই শিউলির চিৎকারে ধড়ফড় করে উঠে পড়লো রমিজ। ভয়ে ভয়ে তাকালো সামনে।

সেই আগে দেখা দুঃস্বপ্নের মতই আবারো... জুঁইয়ের জায়গায় একটা বাচ্চার কঙ্কাল! কোন মিষ্টি গাঁথা নেই এবার। তার জায়গায় পুরো কঙ্কালটার সবখানে কেমন একটা মিষ্টির রসের মত পিচ্ছিল আবরণ!

রমিজ আবারো অন্ধকারে ডুবে গেলো।

চোখ খুলতেই আবারো সেই আগের মত সেই রাস্তায় নিজেকে দেখতে পেলো। আজান হচ্ছে! সামনে মিষ্টির দোকানটা!

আবারো পাগলের মত ছুটে এলো রমিজ বাড়িতে। ঢুকেই জোড় করে শিউলি আর জুঁইকে নিয়ে চলে গেলো সোজা রেলস্টেশনে। রাতের ট্রেনেই গ্রামে ফিরবে সে। থাকবে না এখানে। তার মাথা কাজ করছে না ঠিকমত।

সারারাত এক সেকেন্ডের জন্য ঘুমাবে না। দাঁতে দাঁত চেপে প্রতিজ্ঞা করলো রমিজ। ট্রেনের হুইসেল যখন দিলো তখন রাত বারোটা।

ট্রেনটা ছাড়তেই একটা মুহূর্তের জন্য চোখের পাতা বন্ধ করে আবার তাকানোর আগেই রমিজ শুনলো শিউলির কানফাটানো চিৎকার!

প্রচন্ড হতাশায় চোখমুখ কুঁচকে তাকিয়ে দেখলো শিউলির কোলে জুঁইয়ের শরীরের বদলে একটা ছোট্ট কঙ্কাল পেঁচিয়ে ধরা! আগের মতোই!

কঙ্কালটার সমস্ত সাদা হাড়গুলোয় কিলবিল করছে হাজার হাজার নীলচে রংয়ের বরফের মত ঠান্ডা... মৌমাছি!

রমিজের দুই চোখ আপনাআপনি বন্ধ হয়ে আসলো।

চোখ খুলতেই, সেই রিকশা!
সেই রাস্তা!
সেই সন্ধ্যা!
সেই চারপাশের আজানের শব্দ আর

আর সামনেই... সেই মিষ্টির দোকান!

২.
রমিজ দুই হাতে মাথা চেপে বসে আছে। তার সামনে বসে জুঁইকে কোলে নিয়ে উদভ্রান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শিউলি।

রাত তিনটে প্রায়।

এখন পর্যন্ত কত মিনিট, কত ঘন্টা কিংবা কত দিন চলে গেছে রমিজের কোনরকম ধারণা নেই।

কমপক্ষে কয়েকশো বারের বেশি ওই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে তার সাথে!

প্রতিবার রমিজ একটা ঘোরে চলে যায়, শিউলির চিৎকারে জেগে ওঠে। উঠে দেখে জুঁইয়ের শরীর কঙ্কাল হয়ে পড়ে আছে একেকবার একেক অবস্থায়। কিন্তু প্রতিটিই বিভৎস! তারপর মুহূর্তে নিজেকে আবার আবিষ্কার করে সেই রাস্তায়, রিকশায়। মিষ্টির দোকানটার সামনে।

বেশ কয়েকবার শিউলিকে ঘটনাটা বলেছে। কোনবারই বিশ্বাস করেনি। কে বিশ্বাস করবে এমন গাঁজাখুরি ঘটনা?

প্রতিবার নতুন করে বোঝাতে বোঝাতে রমিজ বিরক্ত হয়ে গেছে। বোঝানো বাদ দিয়ে দিয়েছে।

জায়গা চেঞ্জ করেও দেখেছে অনেকবার। যেখানেই যাক না কেন, ঘুরেফিরে সেই একই ঘটনা চক্কর কেটেই যাচ্ছে।

কয়েকটা জিনিস ইতিমধ্যে বের করেছে রমিজ। প্রতিবার নিজেকে রাস্তায় আবিষ্কার করার পর তার ঘোরে চলে যাওয়া আর জুঁইয়ের কঙ্কাল পাওয়া এই ঘটনাটুকু শুরু হয় ঠিক ভোর ৪ টায়।

তারমানে সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ভোর ৪ টা। এই ১০ ঘন্টার মাঝেই তার চক্রাকারে ঘুরতে হচ্ছে!

সন্ধ্যা ছয়টায় সে মিষ্টির দোকান ক্রস করে। বাসায় যায়। ভোর চারটায় সে না চাইলেও তার চোখ বন্ধ হয়ে আসে। বৌয়ের চিৎকারে চোখ খুলে দেখে জুঁই নেই। পরমুহূর্তে নিজেকে খুঁজে পায় আবার গত সন্ধ্যা ছয়টায়, সেই রাস্তায়।

রমিজ চুপ করে বসে আছে। আর একটু পর চারটা বাজবে। আবার শুরু হবে সেই চক্র।

এই চক্রের ভেতর একশো বারের বেশি ঘোরা হয়েছে যেমন, ঠিক তেমনি একশোর মত উপায় খুঁজেছে রমিজ।

মিষ্টি না কিনে বাড়ি যাওয়া,
মিষ্টি কেনা,
কেনার পর সেই স্যুট পরা লোকের মিষ্টি চুরি করা,
বাড়িতে গিয়ে সারারাত জুঁইকে কোলে নিয়ে বসে থাকা,
দশ ঘন্টা জার্নি করে ওদের নিয়ে আরেক শহরে চলে যাওয়া,
জুঁই আর শিউলি কে আলাদা আলাদা করে দুই জায়গায় রেখে নিজে আরেক জায়গায় চলে যাওয়া,
বড় পীর, সাধু, তান্ত্রিক যখন যাকে পেয়েছে তার কাছে যাওয়া,
নিজের করা জঘন্য কিছু অপরাধ স্বীকার করে বারবার ক্ষমা চাওয়া,
এমনকি পবিত্র সব স্থানের ভেতরে গিয়ে বসে থাকা।

কোনটাতেই কোনভাবে এই চক্র থেকে ছুটতে পারেনি রমিজ। প্রতিবারই একই ঘটনা ঘটছে। সেই একই জায়গায় গোল গোল ঘুরছে সে।

ঘড়ির দিকে তাকালো রমিজ। আর পাঁচ মিনিট বাকি চারটা বাজতে। সে মনস্থির করে নিয়েছে।

শেষ চেষ্টা করবে এবার এই অভিশাপ থেকে বের হবার।

চারটা বাজতেই আপনাআপনি রমিজের দু'চোখ বন্ধ হয়ে গেলো। কানে আসলো শিউলির চিৎকার। চোখ মেলে আর জুঁইয়ের দিকে তাকালো না। অপেক্ষা করতে লাগলো সে রাস্তায় ফিরে যাবার।

বেশিক্ষণ অপেক্ষা করা লাগলো না। পরমুহূর্তেই নিজেকে রিকশায় আবিষ্কার করলো। সন্ধ্যা ছয়টা। রমিজ রিকশা থামালো। রিকশা থেকে নেমে এলো।

রিকশা সেখানে রেখেই সে উল্টো দিকে ঘুরে ছুটতে শুরু করলো।

প্রাণপণে ছুটছে রমিজ। এই দশ ঘন্টায় যতদূরে সম্ভব যাওয়া যায় জুঁই আর শিউলির কাছ থেকে, ততোটা দূরে যাবে সে। এর আগে প্রতিবারই তো বৌ আর মেয়ের কাছে ছুটে গেছে, ফলাফল একই।

এবার যদি ওদের থেকে অনেক অনেক দূরে সরে যায়, সে চক্র কি ভাঙবে?

ছুটতে ছুটতে কতদূর চলে এসেছে জানে না রমিজ। একটা বাস স্ট্যান্ড সামনে পেয়ে যে বাস পেলো চড়ে বসলো।

রমিজ জানেও না সে কোথায় যাচ্ছে। শুধু দূরে, অনেক দূরে সরে যেতে চায় সে।

সময় ভোর তিনটা আটান্ন মিনিট। এক সেকেন্ডের জন্য ঘুমায়নি রমিজ। মাঝে কয়েকবার বাস চেঞ্জ করেছে। এই দশ ঘন্টায় প্রায় পাঁচশো কিলোমিটার দূরে চলে এসেছে সে।

এবার কি হবে?

হাতের পুরনো ক্যাসিও ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে রইলো। ঠিক চারটা বাজলো।

সাথে সাথে অন্ধকারে ডুবে গেলো সে। চোখ খোলার আগেই কানে আসলো শিউলির আর্তনাদ। প্রচন্ড হতাশা আর অসহায়ত্ব নিয়ে চোখ খুলে রমিজ দেখলো, সে নিজের ঘরে, নিজের বিছানায় বসে আছে। সামনে শিউলি আর... জুঁইয়ের অবশিষ্টাংশ!

কয়েক মুহূর্ত পর নিজেকে আবার সেই রাস্তায় সেই রিকশায় আবিষ্কার করলো। রমিজ দুই হাতে মাথার চুল টেনে ধরে পাগলের মত চিৎকার করতে করতে রিকশা থেকে নামলো।

সে পাগল হয়ে যাচ্ছে! সম্পূর্ণ পাগল হয়ে যাচ্ছে!

কিভাবে ছুটবে সে এখান থেকে?

শান্ত হয়ে লম্বা শ্বাস টানলো কয়েকবার। রিকশা বেশ খানিকটা দূরে রেখেই হেঁটে হেঁটে সেই মিষ্টির দোকান পর্যন্ত আসলো। মাঝে একবার জুঁইকে কোলে নিয়ে এই মিষ্টির দোকান পর্যন্ত ফিরে এসেছিলো বাসা থেকে। কিন্তু এসে এখানে এই দোকানের কোন অস্তিত্বও পায়নি।

আরেকবার রিকশা থেকে নেমে মিষ্টির দোকানটায় আগুন লাগিয়ে ছুটে পালিয়ে গিয়েছিলো সে। যদি দোকানটা ধ্বংস হলেও সে এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়।

তাতেও কোনরকম লাভ হয়নি। ফলাফল... প্রতিবার সেই একই!

রমিজ এখন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সবকিছুর মূলে এই মিষ্টির দোকান। তার ওই চক্কর কাটা রাতগুলোয় অনেকবার অনেক মানুষকে জিজ্ঞেস করেছে এই দোকানটা নিয়ে। কেউ নাকি কখনো এই দোকানটা দেখেনি। রমিজও কাউকে এনে দোকানটা দেখাতেও পারেনি। উল্টো তাকে পাগল ভেবেছে।

ধীর পায়ে দোকানের ভেতর ঢুকলো রমিজ। গোলগাল শান্ত হাসি হাসিমুখে সেই অদ্ভুত লোকটা তার রাজকীয় চেয়ার থেকে নেমে রমিজের সামনে এসে দাঁড়ালো।

"মিষ্টি কিনবেন?" হাসিমুখে প্রশ্ন করলো লোকটা।

"কে আপনি? কি চান আপনি? কেন হচ্ছে এসব আমার সাথে? কি দোষ করেছি আমি? কি দোষ করেছে আমার মেয়ে? কেন এই শাস্তি পেতে হচ্ছে আমাকে?" কান্নাচাপা গলায় চিৎকার করে একের পর এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল রমিজ।

লোকটা কোন উত্তর না দিয়ে শান্ত চোখে হাসিমুখে তাকিয়ে রইলো। তারপর উল্টো দিকে ঘুরলো। মাথা থেকে টুপিটা নামাতেই চমকে উঠলো রমিজ। লোকটার মাথায় কোন চুল নেই। মাথার পেছনে সবখানে চারপাশে গোল গোল কালো মিষ্টির মত অনেকগুলো বড় বড় চোখ!

একটা টাকমাথা মানুষের পুরো মাথা ভর্তি একগাদা ড্যাবড্যাব করে তাকানো চোখ... অন্য কোন সময় হলে হয়তো মূর্ছা যেত রমিজ। কিন্তু এখন সবই সম্ভব মনে হচ্ছে তার।

লোকটা তার চেয়ারে গিয়ে বসলো। রমিজের দিকে ফিরে আগের মতই হাসিমুখে প্রশ্ন করলো,
"লোভ! অহংকার! ঘৃণা! মানুষ এই তিনে সবসময় ডুবে থাকে। সবসময় মানুষ নিজের ভাগ্য থেকে পালাতে চায়, কেন? লোভ করলে শাস্তি পেতে হবে। অহংকার করলে শাস্তি পেতে হবে। মানুষ কেন সেই অবধারিত শাস্তি থেকে পালাতে চায়?"

রমিজ ডুকরে কেঁদে উঠলো। তার ভেতরে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। লোকটা আবার বলে উঠলো, "নিজের ভাগ্যকে বদলানোর চেষ্টা না করে সবকিছুকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা কর। মিথ্যা, লোভ আর অহংকারের শাস্তিকে মাথা পেতে নাও। কোন কিছুকেই হাতের নাগালের বাইরে যেতে দিবে না। ভুলেও না!" কথা শেষ করে রমিজের হাতে এক প্যাকেট মিষ্টি তুলে দিলো।

রমিজ বিমূঢ়ের মত প্যাকেটটা নিয়ে বাইরে আসলো। হেঁটে হেঁটে নিজের রিকশা পর্যন্ত গিয়ে সেটা চালিয়ে দোকান পর্যন্ত আসতেই চোখ পড়লো কোট প্যান্ট পরা লোকটার দিকে।

"যাবেন?" লোকটা অস্থির গলায় প্রশ্ন করলো।

"কোন কিছুকে হাতের নাগালের বাইরে যেতে দিবেন না..." কথাটা বিড়বিড় করলো রমিজ। লোকটাকে বললো, "আসেন।"

ঠিকানা পর্যন্ত আসতেই লোকটা রিকশা থেকে নেমে আসলো। রমিজ অপেক্ষা করছে তার মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে লোকটার দৌড় দেবার। লোকটা প্যাকেটটা নিয়ে দৌড় দিতেই রমিজ তার পেছনে ছুটলো।

এই একটা কাজ এখম অব্দি করা হয়নি তার। লোকটার পেছনে ছুটে যাওয়া!

লোকটা প্যাকেট হাতে ছুটছে। কোনদিকে তাকাচ্ছে না। তার কোট বাতাসে উড়ছে। টাই উড়ে পেছনে চলে গেছে সামনে থেকে। উর্দ্ধশ্বাসে দৌড়ুচ্ছে সে।

রমিজও ছুটছে। কোনমতেই হাতছাড়া করবে না লোকটাকে। নাগালের বাইরে যেতে দিবে না তাকে। দৌড়ানোর এক পর্যায়ে লোকটা ঠিক যখন মিষ্টির প্যাকেটটা ছিঁড়তে নিবে ঠিক তখনই রমিজের বাড়ানো হাত লোকটার কোটের একটা প্রান্ত ধরে ফেললো। সাথে সাথে মিষ্টির প্যাকেটটা অদৃশ্য হয়ে গেলো। লোকটা থেমে গেলো। ঘুরে তাকালো রমিজের দিকে।

তার দু'চোখে পানি। সেই চোখদুটোয় কষ্ট, অনুতাপ আর গভীর বিষাদ দেখতে পেলো রমিজ।

"কে আপনি? কেনই এ সামান্য মিষ্টির প্যাকেটটা চুরি করে পালাচ্ছেন? আপনি কি জানেন কি হচ্ছে? কেন বারবার বারবার এই ঘটনা ঘটে যাচ্ছে? আপনিও কি এই চক্রের মাঝে আছেন? আপনি কি জানেন কিছু? কিভাবে এর শেষ?" হাঁপাতে হাঁপাতে একনাগাড়ে প্রশ্নগুলো করলো রমিজ।

লোকটা ঠোঁটে এক অদ্ভুত বিষাদমাখা হাসি ফুটে উঠলো।

"এই চক্র? এই চক্র সম্পর্কে আমি জানি কি না? হাহ! এই চক্রে আমি বন্দী আজ কত বছর? এক হাজার? দুই হাজার? তিন? চার? জানি না। মনে হয় অনন্ত কাল ধরে বন্দী আমি এই চক্রে। সৃষ্টির শুরু থেকে আজ এই অব্দি আমি ছুটে বেড়াচ্ছি গোল গোল এ চক্রে। এই সভ্যতার আগের সভ্যতা, তার আগের সভ্যতা, আধুনিক এই সময়ের আগের যুগ, আগুনের যুগ, পাথরের যুগ, আদিম যুগ... জানি না কবে থেকে ছুটছি আমি। এর কোন শেষ নেই আমার জন্য। এ আমার অবধারিত শাস্তি! "

"কে আপনি? কেন আপনি ছুটে বেড়াচ্ছেন? আর কেনই বা আমি ফেঁসে আছি এর ভেতর? ওই মিষ্টির দোকান? ওটা কি? উনিই বা কে?" রমিজের হতবুদ্ধি প্রশ্নবাণ ছুটতেই থাকে।

"মিষ্টির দোকান? তোমার জন্য ওটা একটা মিষ্টির দোকান। কারো জন্য কাপড়ের দোকান, কারো জন্য অলংকারের দোকান, কারো জন্য খাবার দোকান, কারো জন্য জুতা, বাচ্চাদের খেলনা, কারো জন্য হাসপাতাল আর কারো জন্য কোন প্রাসাদ...! একেকজনের কাছে একেকটা। তোমার জন্য, সেটা শুধুই একটা মিষ্টির দোকান।"

"আর... আর আপনি?"
"আমি? যে যেটা নিয়ে বেরুবে সেখান থেকে সেটা নিয়ে অনন্তকাল ছুটে যাওয়াই হচ্ছে আমার শাস্তি।"

রমিজের মুখ দিয়ে কথা সড়ছে না। "আপনার শাস্তি? আপনার শাস্তি? তাহলে আপনার শাস্তিতে আমি কেন ফেঁসে আছি? আমি কেন আঁটকা পড়ে আছি আপনার শাস্তিতে? কেন?" প্রায় চিৎকার করে উঠলো রমিজ।

কিছু বলার আগেই তাদের চারপাশের দৃশ্য পরিবর্তন হয়ে গেলো। ওরা দুজন নিজেদের আবিষ্কার করলো সেই মিষ্টির দোকানে।

রমিজ দেখছে সেই সাধারণ মিষ্টির দোকান।
আর কোট পরা লোকটা দেখছে এক বিরাট রাজপ্রাসাদ।

সেই প্রাসাদের ভেতরে এক বিশাল ভোজনালয়। এক বিরাট খাবার টেবিল। যার এক প্রান্তে বসে আছে রমিজের দেখা সেই মিষ্টির দোকানদার। লোকটার পরনে অদ্ভুত এক ঢোলা সাদা পোশাক। মাথায় জ্বলজ্বল করা এক মুকুট।

কোট পরা লোকটার পরনেও এখন সেই সাদা ঢোলা পোশাক। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে সে। "প্রভু, আমার এ শাস্তির কোন অন্ত কি নেই?" কাঁপা কাঁপা গলায় প্রশ্ন করলো সে।

প্রভু বলে সম্বোধিত লোকটা তার দিকে তাকিয়ে বললো, "যে লোভ আর অহংকার তুমি করেছো তার শাস্তি সৃষ্টির শেষ পর্যন্ত তোমাকে ভোগ করতেই হবে টান্টালাস।"

রমিজ চারপাশে এতসব কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। সে শুধু সাধারণ সেই মিষ্টির দোকানটাই দেখছে, সেই দোকানদার আর কোট প্যান্ট পরা মানুষটাকেই কথা বলতে দেখছে।

"প্রভু? লোভ? শাস্তি? কে আপনারা? কি চান আপনারা? কেনই আমি আপনাদের মাঝে?"

টান্টালাস হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো। সামনের রাজকীয় চেয়ারে বসে থাকা মুকুট মাথায় লোকটা, সেই দোকানদার রমিজের দিকে ফিরল।

"হাজার বছর আগে নিজের অসীম ক্ষমতা আর অহংকারে মত্ত এই টান্টালাস আমাদেরকে তার প্রাসাদে নিমন্ত্রণ করেছিলো। আমাদের ক্ষমতা যাচাই করার জন্য সে নিজের ছেলেকে হত্যা করেছিলো এবং সেই মৃত ছেলের মাংশ আমাদের খাবার হিসেবে পরিবেশন করেছিলো এটা জানার জন্য আমরা সত্যিই সর্বদ্রষ্টা, সর্বজ্ঞানী নাকি সব কিছুই মিথ্যা। নিজের উপর অহংকারে মত্ত হয়ে সেদিন যে পাপ সে করেছিলো সেইদিন থেকে তার অভিশাপের শুরু। এই অভিশাপ সে বয়ে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার বছর ধরে। আজীবন বয়ে বেড়াবে। সময় আর যুগের সাথে সাথে তার শাস্তিও পরিবর্তিত হবে। কিন্তু শেষ হবে না। আর তুমি? রমিজ হোসেন।"

রমিজ স্তব্ধ হয়ে শুনে গেল।

"জুঁই তোমার দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে জন্ম নেয়া মেয়ে সন্তান। এর আগের স্ত্রীর ঘরে যে সন্তান জন্ম নিয়েছিলো সেই সন্তানকে তুমি নিজের হাতে খুন করেছিলে। কারণ তোমার ধারণা ছিলো সেই সন্তান তোমার নয়। সেই সন্তান তোমার প্রথম স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের ফসল। সবাই জানতো তোমার সেই সন্তান হারিয়ে গেছে, তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু তুমি কি করেছিলে? সেই সন্তানের লুকিয়ে রাখা লাশ কেটে টুকরো টুকরো করে তার নামে যে মিলাদ আয়োজন করেছিলে, সেই মিলাদে আয়োজন করা মাংশের সাথে সেই ছোট্ট বাচ্চার কাটা মাংশগুলো মিশিয়ে দিয়ে রান্না করেছিলে। তারপর খাইয়ে দিয়েছিলে দাওয়াতে আসা সবাইকে। কারণ তুমি জানতে কেউ তোমাকে সন্দেহ করবে না। ধরতে পারবে না। তোমার প্রথম স্ত্রী তার পরদিনই আত্মহত্যা করে মারা যায়। তোমার অহংকার, ঘৃণা, পাপ তোমাকে ঠিক টান্টালাসের জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে। তুমি কিংবা তোমার মত আরো হাজার হাজার ঘৃন্য মানুষের এই চক্র থেকে কোন মুক্তি নেই!"

রমিজ নির্বাক হয়ে মাথা নিচু করে রাখল। তার দু'চোখ ভর্তি পানি। "কে আপনি? কে আপনারা?" একবার ভাঙা গলায় ফিসফিস করে প্রশ্ন করলো সে। কোন উত্তর পেলো না।

ধীর পায়ে বের হয়ে আসলো সেই মিষ্টির দোকান কিংবা দেব-প্রাসাদ থেকে।

গভীর রাত। প্রায় ভোর। রমিজ মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। সামনে প্রচন্ড গতিতে একটা মালবাহী ট্রাক ছুটে আসছে।

"আমার মৃত্যুতেই যদি এই চক্রের শেষ হয়, তবে তাই হোক। তবে তাই হোক।" দাঁতে দাঁত চাপলো রমিজ।

রমিজের শরীরের হাড় মাংশ সব থেঁতলে পিষে দিয়ে ট্রাকটা সামনে চলে গেলো। অসহনীয় মৃত্যু যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠলো রমিজ।

তারপর পরই হঠাৎ সব কিছু কেমন শান্ত হয়ে গেলো। কোন যন্ত্রনা নেই, কোন কষ্ট নেই, কোন হাহাকার নেই।

রমিজ পেরেছে? নিজের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করার মাধ্যমে সে এই চক্র কেটে বের হতে পেরেছে! "এই চক্র থেকে তোমাদের মুক্তি নেই" কথাটা সে ভুল প্রমাণ করেছে।

চোখ খুলতেই বরফের মত জমে গেলো সে।

সামনে শিউলি বসে আছে, তার কোলে জুঁই।

রমিজ অনুভূতিহীন দৃষ্টিতে ঘড়িটার দিকে তাকালো।

রাত ৩টা ৫৯ মিনিট, ৫৫ সেকেন্ড!
৫৬, ৫৭, ৫৮, ৫৯...!
----------------------------------------------------------------------------

বিরাট জুয়েলারির শো-রুমের সামনে একটা কালো লিমুজিন এসে থামলো। ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো হাসিখুশি এক দম্পতি। ছেলেটার পরণে দামী স্যুট, মেয়েটাকেও দামী শাড়ীতে সুন্দর লাগছে। দু'জনে শো-রুমের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো।

কাউন্টারের ওপাশে বিশাল এক চেয়ারে বসা গোলগাল চেহারার মানুষটা ছেলেটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ছেলেটার দু'চোখের ভেতর দিয়ে সে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে গত সপ্তাহে কিভাবে নিজের বাবাকে খুন করে অঢেল সম্পত্তি নিজের নামে করে নিয়েছে সে! কিভাবে নিজের মা'কে হাসপাতালে মৃত্যুর মুখে ফেলে রেখে এসেছে দ্বিধাহীন চিত্তে!

চেয়ার ছেড়ে নেমে এলো লোকটা। ওদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। অমায়িক একটা হাসি দিয়ে প্রশ্ন করলো,
"গয়না কিনবেন?"

-সমাপ্ত-